top of page

৫১ সতীপীঠের ইতিহাস ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

Aug 16, 2025
3 min read

Updated: Jul 17

প্রাচীন কালে, দেবী সতী যিনি মহাদেবের অনুরাগিনী ছিলেন, তাঁর পিতা দক্ষ একটি যজ্ঞে মহাদেবকে নিমন্ত্রণ না দিয়ে অপমান করেন। সতী রাগ ও লজ্জার বশে সেই যজ্ঞের আগুনের মধ্যে আত্মাহুতি দেন। মহাদেব শোকগ্রস্ত হয়ে সতীর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করেন, যা পৃথিবীর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা সৃষ্টি করে। দেবতারা বিষ্ণুর কাছে সাহায্যের অনুরোধ করলে, বিষ্ণু তাঁর সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ৫১টি অংশে বিচ্ছিন্ন করেন। এই অংশগুলি যেসব স্থানে পড়েছিল সেসব স্থানেই শক্তিপীঠ প্রতিষ্ঠিত হয়—যেগুলো হয়ে ওঠে শাক্তধর্মের অন্যতম পবিত্র তীর্থ, যেখানে দেবী শক্তি নানা রূপে আরাধিত হন। প্রতিটি শক্তিপীঠ একটি বিশেষ দেবীর নাম, দেবোরূপ এবং সেই স্থানের স্থানীয় কাহিনী-ঐতিহ্য অনুযায়ী পূজিত হয়। মহাদেব শিব এই পীঠগুলোকে রক্ষা করার জন্য প্রত্যেক স্থানে ভৈরব রূপ ধারণ করেন। ৫১ শক্তিপীঠ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এক বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির ছবি, যেখানে দেবীর পবিত্রতা ও শক্তির বিভিন্ন রূপ সজীব হয়েছে। শক্তিপীঠের এই অসম্ভব প্রাচীন কাহিনী বাঙালি হৃদয়ের গভীরে আদ্যাশক্তির আগুন জ্বালিয়ে রাখে। প্রতিটি পীঠের গল্প যেন এক দৃঢ় হত্যা, মমতার মাঝেই আত্মত্যাগের মহাকাব্য। যেখানে সতীর ছিন্ন শরীরের প্রতিটি অংশের ঐতিহাসিক স্থান, সেই স্থান গুলো ভক্তদের জন্য এক অনন্ত শিক্ষালয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কেন্দ্র, আর সবচেয়ে বড় কথা — দেবীর অমিত শক্তির প্রবাহমান উৎস। শক্তিপীঠ শুধু তীর্থ নয়, এটি জীবনের প্রতিটি ক্ষণে শক্তির উৎস, নারীর মুক্তি ও আত্মজাগরণের প্রতিক। সতীর যজ্ঞ থেকে আজকের এই শক্তিপীঠগুলো এক গভীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার হয়ে মানবজাতির কল্যাণকামী শক্তিকে প্রজ্জ্বলিত করে চলেছে। এইভাবেই ৫১ শক্তিপীঠের ইতিহাস এক পৌরাণিক রূপকথা থেকে হয়ে উঠেছে জীবন্ত আস্থা ও শক্তির উৎসস্থল, যা ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার আধ্যাত্মিক যাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

পৌরাণিক মতে, দেবী সতী মহাদেবকে বিয়ে করেছিলেন, যা তাঁর বাবা দক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। দক্ষ নিজ যজ্ঞে সতী ও মহাদেবকে অপমান করেন; এতে সতী অপমান ও দুঃখে আপন জীবন বিসর্জন দেন যজ্ঞের অগ্নিকুণ্ডে। প্রিয় স্ত্রীর মৃত্যুতে শিব শোকাক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃতদেহ কাঁধে নিয়ে শুরু করেন ভয়ানক তাণ্ডব নৃত্য। এই প্রলয় ঠেকাতে বিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ৫১টি অংশে বিভক্ত করেন। সতীর দেহাংশ যেসব স্থানে পড়েছিল, সেগুলোই পরিচিত হয়শক্তিপীঠনামেহিন্দু সমাজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও পবিত্র তীর্থক্ষেত্রগুলির মধ্যে।

৫১ সতীপীঠ: স্থান, দেবীর অঙ্গ, ভৈরবের নাম

নিচে পূর্ণ তালিকা:

ক্রমিক

পীঠ

অবস্থান

দেবীর অঙ্গ/অংশ

দেবীর নাম

ভৈরবের নাম

হিঙ্গুলা/হিংলাজ

পাকিস্তান, করাচি

মস্তিষ্ক/মন

কোটারি

ভীমলোচন

করবীর/সর্করারে

পাকিস্তান, করাচি

তিনটি নয়ন

মহিষমর্দিনী

ক্রোধীশ

সুগন্ধা

বরিশাল, বাংলাদেশ

নাসিকা

সুনন্দা

ত্র্যম্বক

অমরনাথ

কাশ্মীর, ভারত

কণ্ঠ

মহামায়া

ত্রিসন্ধ্যেশ্বর

জ্বালামুখী

হিমাচল, ভারত

জিভ

সিদ্ধিদা/অম্বিকা

উন্মট ভৈরব

জালন্ধর

পাঞ্জাব, ভারত

বাম স্তন

ত্রিপুরমালিনী

কপিলাম্বর

বৈদ্যনাথ

ঝাড়খণ্ড, ভারত

হৃদয়

জয়দুর্গা

বৈদ্যনাথ

মানস

মানসসরোবর

ডান হাত

মঙ্গলচণ্ডী

সিদ্ধিদায়ক

নেপাল

গুজ্যেশ্বরী, নেপাল

হাঁটু

মহশিরা

কাপালি

১০

উৎকল

পুরী, ভারত

নাভি

বিমলা

জগন্নাথ

১১

গণ্ডকী

মুক্তিনাথ, নেপাল

গণ্ডদেশ

গণ্ডকীচণ্ডী

চক্রপাণি

১২

বহুলা

কেতুগ্রাম, বর্ধমান

বাঁ বাহু

বহুলা

ভীরুক

১৩

উজানী

গুসকরা, বর্ধমান

ডান কনুই

মঙ্গলচণ্ডী

সিদ্ধিদায়ক

১৪

চট্টগ্রাম

বাংলাদেশ

ডান বাহু

ভবানী

চন্দ্রশেখর

১৫

ত্রিপুরা

ত্রিপুরা

ডান পা

ত্রিপুরাসুন্দরী

ত্রিপুরেশ্বর

১৬

ত্রিস্রোতা

জলপাইগুড়ি

বাঁ পা

ভ্রামরী

ঈশ্বর

১৭

কামরূপ কামাখ্যা

গুয়াহাটি

যোনি

কামাখ্যা

উমানন্দ

১৮

যুগাদ্যা

ক্ষীরগ্রাম, বর্ধমান

ডান পায়ের আঙুল

যুগাদ্যা

ক্ষীরকান্ত

১৯

কালিঘাট

কলকাতা

ডান পাটির বুড়ো আঙুল

কালী

নকুলেশ্বর

২০

প্রয়াগ

এলাহাবাদ

হাতের আঙুল

ললিতা

ভবা

২১

জয়ন্তী

শ্রীহট্র, বাংলাদেশ

বাঁ জঙ্ঘা

জয়ন্তী

কর্মধীশ্বর

২২

কিরীটেশ্বরী

মুর্শিদাবাদ, আজিমগঞ্জ

কিরীট

কিরীট

সংবর্ত

২৩

বারাণসী

বারাণসী

কর্ণ

বিশ্বলক্ষ্মী

কাল

২৪

কন্যাশ্রম

তামিলনাড়ু

পৃষ্ঠ

কুমারী

নিমিষা

২৫

কুরুক্ষেত্র

হরিয়ানা

গুল্ফ

সাবিত্রী

অশ্বনাথ

২৬

মনিবেদ

রাজস্থান

মনিবন্ধ

গায়ত্রী

সর্বানন্দ

২৭

শ্রী শৈল

শ্রীহট্ট, বাংলাদেশ

কর্ণকুণ্ডল

মহালক্ষ্মী

সর্বানন্দ

২৮

কঙ্কালী

কঙ্কালীতলা, বীরভূম

কঙ্কাল/শ্রোণি

কঙ্কালেশ্বরী

রূরু

২৯

কালমাধব

মধ্যপ্রদেশ

বাঁ নিতম্ব

কালী

অসিতানন্দ

৩০

শোণ

মধ্যপ্রদেশ

ডান নিতম্ব

নর্মদা

ভদ্রসেন

৩১

রামগিরি

ছত্তিশগড়

ডান স্তন

চণ্ডি

চণ্ড

৩২

বৃন্দাবন

বৃন্দাবন

কেশ

উমা

ভূতেশ

৩৩

শুচিদেশ

কন্যাকুমারী

উপর দাঁত

নারায়ণী

সংহার

৩৪

পঞ্চসাগর

ভুল অবস্থান

নিচের দাঁত

বরাহী

মহারুদ্র

৩৫

করতোয়া

বগুড়া, বাংলাদেশ

তলপ

অপর্ণা

ভৈরব

৩৬

শ্রীপর্বত

তিরুমলয়

ডান তলপ

শ্রীসুন্দরী

সুন্দরানন্দ

৩৭

বিভাষ

তমলুক, মেদিনীপুর

বাঁ গোড়ালি

বিভাষিনী

সর্বানন্দ

৩৮

প্রভাস

গুজরাট

পাকস্থলি

চন্দ্রভাগা

বক্রতুণ্ড

৩৯

ভৈরব পাহাড়

উজ্জয়িনী, মধ্যপ্রদেশ

ঊর্ধ্ব ওষ্ঠ

অবন্তী

লম্বকর্ণ

৪০

জনস্থান

নাসিক, মহারাষ্ট্র

চিবুক

ভ্রমরী

বিক্রকটাক্ষ

৪১

গোদাবরী

রাজমহেন্দ্রী, অন্ধ্রপ্রদেশ

বাম গাল

বিশ্বমাতৃকা

দণ্ডপানি

৪২

রত্নাবলী

খানাকুল, হুগলী

ডান স্কন্ধ

কুমারী

ভৈরব

৪৩

মিথিলা

জনকপুর

বাঁ স্কন্ধ

মহাদেবী

মহোদর

৪৪

নলহাটি

নলহাটি, বীরভূম

নাক

নলাটেশ্বরী

যোগনন্দ

৪৫

কর্ণাট

মাইসোর

কর্ণ

কর্ণাট

অভিরুক

৪৬

বক্রেশ্বর

দুবরাজপুর, বীরভূম

ভ্রুঁমধ্যে মন

মহিষমর্দিনী

বক্রনাথ

৪৭

যশোরেশ্বরী

খুলনা, বাংলাদেশ

হাত/পদতল

যশোরেশ্বরী

চণ্ড

৪৮

অট্রহাস

লাভপুর, বীরভূম

ওষ্ঠ

অট্রহাসিনী

রুরুবৈরব

৪৯

নন্দীকেশ্বর

সাঁইথিয়া, বীরভূম

হার

নন্দিনী

নন্দীকিশোর

৫০

লঙ্কা

শ্রীলঙ্কা

নূপুর

ইন্দ্রাক্ষ্মী

রক্ষশেশ্বর

৫১

বিরাট

জয়পুর, রাজস্থান

উত্তর পাদাঙ্গুলি

অম্বিকা

অমৃত


bottom of page